বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬
সাংহাইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে।
চীনের নেতৃত্বে গঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থায় (ডব্লিউএআইসিও) প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা ১ আগস্ট (শনিবার) ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্থাটির প্রকাশিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে—উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীরকরণ; বৈশ্বিকভাবে ডিজিটাল বিভক্তি কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রসার; বৈশ্বিক এআইয়ে অগ্রগতির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশকে সমর্থন এবং নতুন ও ক্রমবিকাশমান এই প্রযুক্তি যেন মানুষের জন্য উপকারী ও নিরাপদ থাকতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এআই রেগুলেশন তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া।
চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য নগরী সাংহাইকে সদর দপ্তর করে ১৬ জুলাই আন্তঃসরকার এই সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ২৯ দেশকে সদস্য করে বিশ্ব এআই সম্মেলনের উচ্চ পর্যায়ের একটি সভায় এ জোটের ঘোষণা দেয় চীন। চীনের সঙ্গে এই জোটে প্রাথমিক সদস্যদের মধ্যে রাশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগালসহ ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর আরও দেশ রয়েছে।
ওই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিয়েই তিনি বলেছেন, কোনো ‘একক দেশের’ এই প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে না। এআইয়ের উন্নয়ন কোনো দেশের একক পরিবেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঐকতান হওয়া উচিত।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে।
উত্তর দিতে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বৈশ্বিক বিভক্তির প্রসঙ্গ টেনেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে নতুন এই সংস্থা গঠনের বিষয়ও আসে তার কথায়। এর দুদিনের মাথায় সেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার তথ্য দিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চীনা এআই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কথা গোরের সঙ্গে বৈঠকে উঠেছে কি না; এমন প্রশ্নের উত্তরে ওইদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এখন ধরেন, এটা একটা প্রক্রিয়া যেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি—দুনিয়াতে দুই রকম সিস্টেম তৈরি হচ্ছে; দুনিয়াটা দুই রকম ব্লকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এটা ক্রমবিকাশমান প্রযুক্তি, আমরা অনেক কিছুই জানি না। আমি শুধু এটুকু বুঝতে পারছি যে, আগামীতে আমাদের সভ্যতার একটা ভিত্তি হবে এটা। এখনো এটা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু নেই। যেমন ধরেন নতুন যে প্রতিষ্ঠান হয়েছে, ওয়ার্ল্ড এআই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেটা পর্যালোচনা করছে। এখনো তো তাদের পুরো অভিমতটা আমরা জানি না।
Posted ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh